Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাইতির বিরুদ্ধে প্রথম জয় পেল ব্রাজিল। নায়ক ভিনি গোল করলেন এবং করালেন। ৩-০ গোল ব্যবধানে ম্যাচ জয় ব্রাজিলের।
বিশ্বকাপে উঠল সাম্বা ঢেউ
ভারতীয় সময় ভোর ৬-টা, অনেকেই সারারাত জেগেছে আবার কেউ কেউ অ্যালার্ম দিয়ে উঠে পড়েছে। বিশ্বকাপের এই কটা দিন এটাই রোজনামচা। আজকের ভোরটা বিশেষ কারণ ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে রয়েছে ব্রাজিলের সেই শিল্প দেখার জন্য। প্রথম ম্যাচে রাত জাগা সেই অর্থে সার্থক না হলেও আজকের ম্যাচের স্বস্তি পেলেন ব্রাজিল সমর্থকরা। হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের প্রথম জয় ছিনিয়ে নিল ব্রাজিল।
আজকের ম্যাচ ব্রাজিলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জিততেই হত এই ম্যাচে আর হাইতির বিরুদ্ধে এই ম্যাচে দেখা গেল চেনা ব্রাজিলের ঝলক। এই জয়ের নায়ক একেবারেই বলে দেওয়া যায় কে। কারণ নামটা এখন দৈনিক পেপার থেকে সমর্থকদের মুখে মুখে ঘুরছে। প্রথম ম্যাচে গোল করার পর এই ম্যাচেও দলকে জিতিয়ে দিলেন ভিনি। গোল করলেন এবং করালেন। ভিনিসিয়াস না থাকলে যে দলের সমস্যা হবে সেটা এই ম্যাচেই স্পষ্ট হয়ে গেল আরেকবার।
হাইতিকে ব্রাজিল বড় ব্যবধানে হারাবে, এটাই প্রত্যাশিত ছিল তবে এবার অনেককিছু প্রত্যাশা করা হলেও সব যে সেই মত হচ্ছে তা নয়। আর সেটা বুঝতে গেলে আলাদা করে কোনও ডিগ্রির প্রয়োজন নেই। এই ম্যাচ জিততে সমস্যায় পড়তে হয়নি ভিনিসিয়াস, রাফিনহাদেরও। প্রথম ১০ মিনিট যেন প্রতিপক্ষকে মেপে নেওয়ার কাজটা করল ব্রাজিল আর সেটা হয়েছে গেলেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেওয়া শুরু। মাঝে মাঝে এমন অবস্থাও হয়েছে যে হাইতি থেকেছে শুধু দর্শকের ভূমিকায়।
ব্রাজিলীয়রা ফুটবল দক্ষতায় এগিয়ে রয়েছে যে অনেকটাই সেটা দুই দলই জানে। দু’দলের শক্তির তুলনা করা বৃথা। ভিনিসিয়াস, কাসেমিরোদের দেখা ছাড়া হাইতি ফুটবলাররা কী আর করবেন। তবে তাঁরা সাধ্য মতো চেষ্টা করেছেন। অকারণ বেশি রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেনি। বরং চেষ্টা করেছেন মাঝে মাঝে আক্রমণে যাওয়ার। ৬৩ মিনিটে কর্নার থেকে প্রায় গোলও করে ফেলেছিল হাইতি। তবে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার বাঁচিয়ে দেন।
হাইতির কোচের প্ল্যান ছিল জোনাল মার্কিং। তবে এই প্ল্যান কার্যকরী ছিল না। আটকানো যায়নি ব্রাজিলের ফুটবলারদের। সাম্বা বাহিনী বারবার হাইতির রক্ষণ ভাঙতে থাকেন আর সেই সময় তাঁদের কিছুই করার ছিল না। হাইতিকে প্রথম হাফেয় তিন গোল দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এই তিন গোলের পর গ্যালারি জুড়ে যে সাম্বা ঢেউ ওঠে তার তরঙ্গের ছোঁয়া তখন ভারতেও। এখানেই সেই একই হিল্লোল।
আজকের ম্যাচে ব্রাজিল যে ছন্দ দেখাল মূলত এটাই ব্রাজিলের পরিচয়। কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে কেমন খেলে এখন সেটাই দেখার। কিন্তু একটা বিষয় চিন্তার আর সেটা হল ভিনি নির্ভরতা। এটা কাটাতে না পারলে যখন তখন আটকে যেতে হবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
২৩ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিড প্রতিহত করলে বক্সের সামনে বল পান ডিফেন্ডার হানেস ডেলক্রোইক্স। তিনিই প্রায় আত্মঘাতী গোল করে ফেলছিলেন। তাঁর পায়ে লেগে বল ম্যাথেউস কুনহার পায়ের টাছে দিক পরিবর্তন করে জড়িয়ে যায় জালে।
৩৬ মিনিটে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলও আসে কুনহার পা থেকে। গোল তাঁর হলেও এই গোলের কৃতিত্ব সেই ভিনিসিয়াসের। মাঝ মাঠে প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে কিছুটা দৌড়ে ডিফেন্স চেরা পাস দেন কুনহাকে। হাইতির এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন কুনহা।
আরও পড়ুন: Virat Kohli: রোনাল্ডো বিতর্কে চর্চায় কোহলির বার্তা
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময় গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়াস। লুকাস পাকুয়েতা মাঝ মাঠ থেকে বল বাড়ান সেন্টার সার্কেলের বাঁ দিকে থাকা ভিনিকে। গতিতে হাইতির ডিফেন্ডারকে পিছনে ফেলে ডান পায়ের শটে গোল করেন ভিনিসিয়াস। এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় এ বারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম জয়। ব্যবধান আরও বেশি হত যদি কয়েকটা সুযোগ না হাতছাড়া হত।


