Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চেকিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে বাঁশি হাতে দেখা যায় টোরি পেনসোকে আর এই দৃশ্য যথেষ্ট এক চলে আসা অবরোধ ভাঙার জন্য।
প্রথা ভাঙার বিশ্বকাপ (Tori Penso)
বাংলার নবজাগরণ বারবার ইতিহাসে পড়ানো বলেও কিছু ক্ষেত্রে সেটা থেকেছে কলকাতা কেন্দ্রিক। সেখানে কলকাতার বহু মানুষের নাম জায়গা পেলেও অনেকটাই অবহেলিত থেকেছেন একজন। ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল, অথচ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত নাম বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন (Tori Penso)।
তাঁর প্রধান অস্ত্র ছিল কলম আর বুদ্ধিমত্তা। পর্দার দগ্ধ যন্ত্রণা তাঁর বুকে এঁকেছিল চিরকালীন ক্ষত। সেই আগুন থেকেই জন্ম নেয় তাঁর ‘অবরোধবাসিনী’-র। সেখানে মুসলমান নারীর যন্ত্রণার কথা থাকলেও সেটা যেন সকল অবহেলিত নারীদের প্রতিভূ। তাঁর ‘পিঞ্জরে বসিয়া’ পড়ার সময় বুক কাঁপেনি এমন মানুষ পাওয়া কার্যত অসম্ভব।
তবে এই যন্ত্রণার থেকেই তিনি নারী শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। ওই যে আগেই বললাম রোকেয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর বুদ্ধিমত্তা আর সেটা আজকের মত ‘কৃত্রিম’ নয়। তিনি জানতেন, নারীর মুক্তি পুরুষকে শত্রু বানিয়ে নয়, সমাজকে সঙ্গী করেই সম্ভব। আর সেই কারণেই তাই তিনি আন্দোলন করলেও কখনও চিৎকার করেননি। প্রতিবাদের আগুন জ্বেলেও সংঘাতে যাননি। সাহস, শ্লেষ, ব্যঙ্গ সবই ছিল, কিন্তু পুরুষ-নারী কে বড় এই নিয়ে অশান্তি ছিল না। এরপর কাহিনী কমবেশি সবার জানা। প্রথমে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন রোকেয়া আর আজ তাঁর এই প্রতিবাদের দ্যুতি ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে (Tori Penso)।
আরও পড়ুন: Yuvraj Singh: এবার দিল্লির পথে যুবরাজ
বাংলা থেকে মার্কিন মুলুকে ২০২৬ বিশ্বকাপ, আবারও ভাঙল অবরোধ। প্রথম আমেরিকান মহিলা হিসেবে পুরুষদের সিনিয়র বিশ্বকাপ ম্যাচ পরিচালনার কৃতিত্ব অর্জন করলেন টোরি পেনসোকে। পুরুষদের এই ম্যাচটি তিনি শক্ত হাতে পরিচালনা করলেন তিনি, খামতি রাখলেন না নিজের কাজে। মাঠে তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে এটি পুরুষদের বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম ম্যাচ এবং তিনি যে ইতিহাসের সূচনা করলেন সেই গৌরবে ভুললেন না নিজের কর্তব্য। সফল অভিষেকের পর টুর্নামেন্টে আরও ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেতে পারেন তিনি (Tori Penso)।
আমেরিকার ফ্লোরিডায় জন্ম নেওয়া টোরি পেনসো বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম সম্মানিত রেফারি। ২০২০ সালে তিনি প্রথম মহিলা হিসেবে দীর্ঘ ২০ বছর পর মেজর লিগ সকার-এর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। সেই শুরু, এরপর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে পুরুষদের ম্যাচ পরিচালনা করে তিনি ফ্রান্সের স্টেফানি ফ্রাপারের পর দ্বিতীয় নারী অন-ফিল্ড রেফারি হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালেন তিনি। এখান থেকেই শুরু ফুটবল বিশ্বে নবজাগরণের।
টোরি পেনসোর ঝুলিতে এর আগেও এসেছে একাধিক ঐতিহাসিক সাফল্য। ২০২৩ সালে স্পেন ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনা করে প্রথম আমেরিকান রেফারি হিসেবে সেই নজির গড়েছিলেন তিনি। এছাড়া ২০২৩ ও ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক, ২০২১ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ মহিলা বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সাফল্য অর্জন করেছেন আর এরপর আরও একাধিক ম্যাচের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি। তিনি যে রুদ্ধদ্বার উন্মুক্ত করলেন ইতিহাস তাঁর নাম মনে রাখবে সভ্যতার শেষ কাল পর্যন্ত (Tori Penso)।


