Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবারের সন্ধ্যায় ডার্বি অমীমাংসিত (East Bengal vs Mohun Bagan)। ফলাফল ১-১। কিন্তু এই ফলাফল লাল হলুদের নৈতিক জয়। আর এদিন ইস্টবেঙ্গলের নায়ক কেরালা থেকে আসা বিলাল। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে গোল করার পরেই উল্লাসে ইস্টবেঙ্গল গ্যালারির দিকে ছুটে যান তরুণ ফুটবলার মহম্মদ বিলাল। তাঁর পেছনে ছুটে যান অন্যান্য লাল-হলুদ ফুটবলাররাও। কেরালার এই তরুণ ফুটবলারের জীবনের প্রথম ডার্বি ম্যাচ ছিল এটি। প্রথম একাদশে না থাকলেও, দল পরিচালন সমিতির নির্দেশে পরিবর্ত ফুটবলার হিসেবে নেমে মাঠে নামেন তিনি। খেলায় সেরা না নির্বাচিত হলেও, তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও গোল ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মন জয় করে নেয়। বিলাল জানান, একাদশে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে তাঁর মনে কোনও আক্ষেপ ছিল না; বরং কোচের পরিকল্পনা মেনেই তিনি নিজের সেরাটা দিয়েছেন।
জেসিন টিকে-র অনুপ্রেরণা (East Bengal vs Mohun Bagan)
ম্যাচ শেষে বিলাল জানান, ডার্বিতে নামার আগে লাল-হলুদ মেগা দলের সিনিয়র সদস্য ও কেরালার ফুটবলার জেসিন টিকে তাঁকে ফোন করে বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন। জেসিন তাঁকে বলছিলেন, “এই ম্যাচে গোল করতে পারলে সমর্থকেরা মাথায় করে রাখবে, তোমাকে গোল করতেই হবে।” সিনিয়র সতীর্থের সেই প্রেরণাদায়ক কথা মনে রেখেই মাঠে নেমেছিলেন বিলাল এবং গোল তুলে নেন। যদিও ম্যাচটি ড্র অবস্থায় শেষ হয়, তা সত্ত্বেও স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরোনোর সময় লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছ থেকে কুড়িয়েছেন অঝোর প্রশংসা।
ডাগআউট পরিবেশ (East Bengal vs Mohun Bagan)
ইস্টবেঙ্গলের কোচ অর্চিস্মান বিশ্বাস ম্যাচ শেষে বিশেষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ না করলেও নিজের তরুণ দলের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ছেলেদের কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়, ওরা দারুণ লড়াই করেছে। আমি বলেছিলাম, হারানোর কিছু নেই, নিজেদের সেরাটা দাও।” তিনি চাননি যে সিনিয়র দল থেকে কোনো খেলোয়াড় এসে এদের জায়গা নিক, কারণ এই তরুণেরা ডার্বিতে খেলার যোগ্য দাবিদার ছিল। ম্যাচের দু’দিন আগে অনুশীলনে হঠাৎ উপস্থিত হলেও ডাগআউটে ছিলেন না বিনো জর্জ। অর্চিস্মান জানান, বিনোর সঙ্গে তাঁর চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে এবং বিনো তাঁকে কোচ হিসেবে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেন, তাই এই নিয়ে কোনো জটিলতা ছিল না।
আরও পড়ুন: East Bengal: ইস্টবেঙ্গলের ছোটদের কাছে আটকে গেল মোহনবাগান সিনিয়ররা
মনোতোষের আঘাত (East Bengal vs Mohun Bagan)
ম্যাচ চলাকালীন মারাত্মক চোট পেয়ে মনোতোষ মাঝি উঠে যেতে বাধ্য হওয়ায় মাঠে নামানো হয় মহম্মদ বিলালকে (East Bengal vs Mohun Bagan), যিনি ম্যাচের শেষে অন্যতম নায়কে পরিণত হন। ধারণা করা হচ্ছে, অতি দ্রুত সিনিয়র দলে ডাক পেতে পারেন এই তরুণ উদীয়মান তারকা। এছাড়া ম্যাচে লাল-হলুদের গোলরক্ষক গৌরব সাউ-ও বেশ কয়েকটি অসাধারণ সেভ করেন। তবে ম্যাচটি ড্র হওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ রয়ে গেছে কোচ অর্চিস্মানের মনে। একটি বল পোস্টে লাগা এবং একটি সহজ ফাঁকা গোল হাতছাড়া হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটু ভাগ্যের সঙ্গ পেলে হয়তো ম্যাচটি ইস্টবেঙ্গল জিতেই মাঠ ছাড়তে পারত।



