Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ঘিরে যখন সারা বিশ্বের মতো পশ্চিমবঙ্গেও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (FIFA World Cup2026)। খেলার আনন্দ যেন সমাজের প্রতিটি স্তরে, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছেও পৌঁছে যায় এই ভাবনা থেকেই তিনি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রমের ৫৭ জন আবাসিক অনাথ শিশুর উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছেন শুভেচ্ছাবার্তা, ফুটবল এবং প্রত্যেকের নামে বিশেষভাবে তৈরি ফ্যান জার্সি। এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি উপহার প্রদান নয়; বরং শিশুদের প্রতি ভালোবাসা, আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা এবং তাদের স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা দেওয়ার এক আন্তরিক প্রচেষ্টা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শতবর্ষের গৌরব বহন করছে দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রম
দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রমের ইতিহাস ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯২৪ সালের ১১ মার্চ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঐকান্তিক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এই প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে এটি অনাথ ও অসহায় শিশুদের শিক্ষা, আশ্রয় এবং মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কলকাতার মেয়র থাকাকালীন এই সেবাশ্রমের স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য জমি বরাদ্দ করেছিলেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পৌত্র এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাইপো চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়। ফলে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস, সমাজসেবা এবং শিক্ষার এক অনন্য ঐতিহ্য আজও বহন করে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান।
ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ পত্র (FIFA World Cup2026)
এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেবাশ্রমের সম্পাদক শ্রী শুভেন্দ্র মৌলিকের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ পত্র পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রম কেবল একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শে গড়ে ওঠা এক ঐতিহাসিক এবং গৌরবময় প্রতিষ্ঠান। এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা আজও সমাজকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা বিশ্বজুড়েই সুপরিচিত। ফিফা বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা, অধ্যবসায় এবং সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে স্বপ্ন পূরণের সাহসের এক অনন্য প্রতীক।
শিশুদের স্বপ্নপূরণের বার্তা (FIFA World Cup2026)
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ফিফা বিশ্বকাপের এই উৎসব শিশুদের মনে নতুন উদ্দীপনা, আত্মবিশ্বাস এবং ইতিবাচক চিন্তার জন্ম দেবে। তিনি বিশ্বাস করেন, যথাযথ শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রম এবং সমাজের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে এই শিশুরাও একদিন নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হবে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, একজন শিশুর প্রকৃত পরিচয় তার অতীত নয়, বরং তার সম্ভাবনা। সঠিক দিশা, শিক্ষা এবং ভালোবাসা পেলে তারাও আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে দেশ ও সমাজের গর্ব হয়ে উঠতে পারে।
শুধু শুভেচ্ছা নয়, ব্যক্তিগত স্পর্শে উপহার (FIFA World Cup2026)
এই উদ্যোগের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল উপহারের ব্যক্তিগত স্পর্শ। মুখ্যমন্ত্রী শুধু ফুটবল পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি; বরং সেবাশ্রমের ৫৭ জন আবাসিক শিশুর প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে তাদের নিজস্ব নামাঙ্কিত বিশেষ ফ্যান জার্সিও পাঠিয়েছেন। প্রতিটি শিশুর নামে তৈরি এই জার্সি তাদের কাছে শুধুমাত্র একটি পোশাক নয়, বরং নিজের পরিচয়, মর্যাদা এবং ভালোবাসার এক অনন্য স্মারক হয়ে উঠেছে। শিশুদের মধ্যে এই উপহার স্বাভাবিকভাবেই আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
প্রচারের আলো থেকে দূরে এক নীরব মানবিক উদ্যোগ
বর্তমান সময়ে বহু সামাজিক উদ্যোগই প্রচারের আলোয় আসে। কিন্তু এই উদ্যোগে ছিল এক ভিন্ন মাত্রা। আনুষ্ঠানিকতা বা জাঁকজমকের পরিবর্তে নীরবে শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর যে আন্তরিক প্রয়াস মুখ্যমন্ত্রী নিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই একটি অনুকরণীয় মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একটি ফুটবল, একটি নামাঙ্কিত জার্সি কিংবা একটি শুভেচ্ছাপত্র—বাহ্যিকভাবে এগুলি হয়তো ছোট উপহার। কিন্তু যেসব শিশুর জীবনে আপনজনের অভাব রয়েছে, তাদের কাছে এই ভালোবাসার প্রকাশ আত্মবিশ্বাস, স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার শক্তি জোগাতে পারে।
আরও পড়ুন: Sensex Nifty: ভারতীয় শেয়ার বাজারে জোয়ার, বিশ্ববাজারের ধাক্কা সামলাল সেনসেক্স-নিফটি
মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা (FIFA World Cup2026)
ফিফা বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উৎসবের আবহকে উপলক্ষ করে দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রমের শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইতিহাস, ঐতিহ্য, খেলাধুলা এবং সমাজসেবাকে একই সূত্রে বেঁধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ শুধু শিশুদের আনন্দই বাড়ায়নি, বরং সমাজের প্রতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে প্রকৃত উৎসব তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার আনন্দ সমাজের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়।



