Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুকৃত ভট্টাচার্য: NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে শুক্রবার কলকাতায় একাধিক ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়। এই আবহেই ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ঘোষিত মিছিল শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি না মেলায় সংগঠনটি তাদের নিজস্ব ব্যানারে কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, একই ইস্যুকে সামনে রেখে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)-এর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় আন্দোলনে অংশ নিতে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও বুদ্ধিজীবীদের সেই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে CJP (Kolkata CJP Protest Cancel)।

শেষ মুহূর্তে কেন বাতিল হল CJP-র মিছিল? (Kolkata CJP Protest Cancel)
কলকাতা শাখার পক্ষ থেকে CJP কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিকেল ৪টায় একটি প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা করেছিল। তবে কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় সংগঠনটি সেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। সংগঠনের দাবি, পুলিশের সঙ্গে অনুমতি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি “মিসকমিউনিকেশন” তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থেই তারা মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
‘CJP-র ব্যানারে কোনও কর্মসূচি নেই’ (Kolkata CJP Protest Cancel)
CJP-র প্রতিনিধি দেদীপ্য গাঙ্গুলি এক বিবৃতিতে বলেন, “একটা মিসকমিউনিকেশন তৈরি হয়েছে। আমরা ককরোচ জনতা পার্টি কলকাতা শাখার পক্ষ থেকে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিকেল ৪টায় একটি মিছিলের ডাক দিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন অনুমতি না দেওয়ায় সেই মিছিল আমরা Call Off করতে বাধ্য হয়েছি। তবে শিয়ালদহ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বাম সংগঠনের ব্যানারে যে অন্য মিছিলটি হচ্ছে, সেখানে যারা যোগ দিতে চান তাঁরা স্বইচ্ছায় যেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, শুক্রবার CJP-র ব্যানারে কোনও স্বতন্ত্র মিছিল বা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে সংগঠনটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের নামে কোনও পৃথক কর্মসূচি না থাকলেও আন্দোলনের মূল দাবির প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।
আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস
সম্প্রতি NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, যোগ্য পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন রাস্তায় নেমেছে। কলকাতাতেও সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
কেন অনুমতি দিল না লালবাজার? (Kolkata CJP Protest Cancel)
কলকাতা পুলিশের তরফে CJP-র মূল রুটে অনুমতি না দেওয়ার পিছনে একাধিক কারণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, একই সময়ে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত একই রুটে এসএফআই-এর একটি অনুমোদিত মিছিল ছিল। একই রাস্তায় একই সময়ে দুটি পৃথক সংগঠনের মিছিল হলে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বড় সমস্যা তৈরি হতে পারত বলে মনে করে পুলিশ। দ্বিতীয়ত, শুক্রবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইসকনের উল্টোরথ যাত্রাসহ একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল। ফলে বিপুল মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় অতিরিক্ত চাপ এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নেয়। তৃতীয়ত, পুলিশ CJP-কে একটি বিকল্প রুটের প্রস্তাব দেয়। সেই রুট ছিল, শিয়ালদহ → মহাত্মা গান্ধী রোড → কলেজ স্ট্রিট বাটা মোড় → সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ → রানী রাসমণি স্কোয়ার। কিন্তু সংগঠনটি সেই বিকল্প রুটে মিছিল করতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় (Kolkata CJP Protest Cancel)।
SFI-র কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান (Kolkata CJP Protest Cancel)
CJP স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব মিছিল না হলেও NEET আন্দোলনের দাবিগুলি থেকে তারা সরে আসেনি। সেই কারণেই সাধারণ সমর্থক, ছাত্রছাত্রী এবং বুদ্ধিজীবীদের শিয়ালদহ থেকে শুরু হওয়া এসএফআই-এর কর্মসূচিতে ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই পৃথক ব্যানারের পরিবর্তে বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতাজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Kolkata CJP Protest Cancel)
শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা এবং শহরতলির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি তল্লাশি, নজরদারি এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিশেষ করে ধর্মতলা, শিয়ালদহ, কলেজ স্ট্রিট, এসপ্ল্যানেড, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় বাড়ানো হয় পুলিশি টহল। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
CAPF ও CRPF কনভয়ে শহরে প্রবেশ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি রোড হয়ে মোগরা, ব্যান্ডেল, ডানকুনি অতিক্রম করে একাধিক সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (CAPF) এবং CRPF-এর কনভয় কলকাতার দিকে আসে। এই বাহিনীগুলিকে শিয়ালদহ, সাঁতরাগাছি, ধর্মতলা, এসপ্ল্যানেড-সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। প্রশাসনের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।



