Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নানা পাটেকরের প্রয়াণ যেমন ভারতীয় অভিনয় জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, তেমনই সমানভাবে শোকবিহ্বল করে তুলেছে দেশের ক্রীড়ামহলকেও (Nana Patekar Death)। সেলুলয়েডের পর্দায় তাঁর তীব্র ব্যক্তিত্ব ও তীক্ষ্ণ সংলাপের অন্তরালে লুকিয়ে ছিল একজন একনিষ্ঠ ক্রীড়াপ্রেমীর হৃদয়। অভিনয় জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও খেলাধুলোর প্রতি তাঁর টান কেবল দর্শক হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল না; নিজে মাঠে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং নতুন খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়া ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান অধ্যায়।
পর্দার চরিত্র থেকে জাতীয় স্তরের শুটার (Nana Patekar Death)
রুপোলি পর্দার ‘ক্রান্তিবীর’ যে জাতীয় স্তরের একজন সফল শুটার ছিলেন, তা অনেকের কাছেই খানিকটা অবিশ্বাস্য লাগতে পারে। এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল ১৯৯১ সালে, ‘প্রহার’ চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালীন। ছবির স্বার্থে রাইফেল ধরা শুরু করলেও ধীরে ধীরে তা পরিণত হয় গভীর অনুরাগে। কঠোর প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের পর তিনি রাজ্য ও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় নিজেকে তুলে ধরেন। ২০০৪ সালে ইন্দোরের রেওতি রেঞ্জে অনুষ্ঠিত ৪৮তম জাতীয় গেমসে ৩০০ মিটার বিগ বোর ইভেন্টে রৌপ্যপদক জয় করেন নানা। সেই প্রতিযোগিতায় তাঁকে দেখতে সেনাকর্মীদের ভিড় জমে গিয়েছিল। তিন বছর পর, দলগত ইভেন্টে ৫৪৯/৬০০ স্কোর করে ব্রোঞ্জ পদক পান তিনি। শ্যুটিংয়ে এই অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘রিনাউন্ড শট’ খেতাব দেওয়া হয়, যা দেশে মাত্র গুটি কতক ক্রীড়াবিদ পেয়ে থাকেন এবং যার সুবাদে শুল্কমুক্ত রাইফেল ক্রয়ের অধিকার মেলে। বয়স ষাটের কোঠা পার করার পরও তিনি বিভিন্ন শুটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।
শিবাজী পার্কের নেট বোলার (Nana Patekar Death)
কেবল শুটিং নয়, ক্রিকেটের প্রতিও নানার ভালোবাসা ছিল সর্বজনবিদিত। দেশের ম্যাচ থাকলে টিভির সামনে থেকে নড়তেন না তিনি। মৃত্যুর কিছুদিন আগের এক সাক্ষাৎকারে নানা স্মৃতিতর্পণ করে জানান, মুম্বইয়ের ক্লাবস্তরে তিনি নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। একজন দক্ষ অফস্পিনার হিসেবে শিবাজী পার্কে মুম্বই দলের নেট বোলার হিসেবেও বল করার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। অভিনয় জগতের ব্যস্ততম অধ্যায়েও বাইশ গজের টান তিনি কোনোদিন অস্বীকার করতে পারেননি।
উদীয়মান প্রতিভার পথপ্রদর্শক (Nana Patekar Death)
খেলাধুলোকে শুধু নিজের অনুশীলনের মধ্যে আটকে রাখেননি নানা। উদীয়মান শুটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে দেওয়া থেকে শুরু করে ট্রেনিংয়ের যাবতীয় ব্যবস্থা করার কাজেও তিনি ছিলেন সামনের সারিতে (Nana Patekar Death)। বহু প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তরুণ অ্যাথলেটদের উৎসাহিত করতেন।
আরও পড়ুন: US Indian wrestlers: ভারতীয় অ্যাথলিটদের ভিসা দিচ্ছে না মার্কিন দূতাবাস! কারণ কী?
নানা পাটেকরের প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র এক অনন্য শিল্পীকে হারালো ঠিকই, কিন্তু ক্রীড়াবিশ্বও হারালো তার এক নিঃশব্দ, নীরব পৃষ্ঠপোষককে। শিল্প ও ক্রীড়ার এমন বিরল মিলনক্ষেত্র সত্যিই বিরল।



