Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভেনেজ়ুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে আমেরিকার অপহরণ ও গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে (Narendra Modi)। লাতিন আমেরিকার একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানকে লক্ষ্য করে এমন পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বহু দেশ এই ঘটনাকে ‘নয়া মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ’-এর প্রতিফলন বলে আখ্যা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ভারতের অবস্থান (Narendra Modi)
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারত তার চিরাচরিত ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভেনেজ়ুয়েলার সাধারণ মানুষের শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সরাসরি কোনও পক্ষ না নিয়ে ভারত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে, যা ভারতের বহুপাক্ষিক ও শান্তিকামী পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন।
মোদী–নেতানিয়াহু ফোনালাপ (Narendra Modi)
বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থিরতার মধ্যেই বুধবার সকালে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ফোনালাপ নিছক সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা বহন করে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বার্তা। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে লেখেন,“আমার বন্ধু, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলতে পেরে এবং তাঁকে ও ইজ়রায়েলের জনগণকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। আমরা আগামী বছরে ভারত-ইজ়রায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি।” এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ভারত ও ইজ়রায়েলের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক স্তরে নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ঐক্য (Narendra Modi)
নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, “আমরা আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও মত বিনিময় করেছি এবং আরও দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমাদের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছি।” এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়া উভয় অঞ্চলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভারত ও ইজ়রায়েল ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় বজায় রাখতে আগ্রহী।
ভারত–ইজ়রায়েল সম্পর্ক (Narendra Modi)
ভারত–ইজ়রায়েল সম্পর্ক গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে। প্রতিরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা ক্রমেই বেড়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৮ সালে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু শেষবারের মতো ছয়দিনের ভারত সফরে এসেছিলেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: Sweater Tips: শীতে একই সোয়েটার কতদিন পরা উচিত?
স্থগিত সফর ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নেতানিয়াহুর ফের ভারত সফরের কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে সেই সফর বাতিল করা হয়। পরে ডিসেম্বরে নির্ধারিত সফরও স্থগিত হয়। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, সেই সফর পুনর্নির্ধারণের জন্য আলোচনা চলছে। এতে বোঝা যায়, সাময়িক বাধা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সদিচ্ছা অটুট রয়েছে।



