Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সম্প্রতি নাসা ঘোষণা করেছে যে, আমাদের সৌরজগতের বাইরে অর্থাৎ এক্সোপ্ল্যানেট এর সংখ্যা ছয় হাজার ছুঁয়েছে (NASA Exoplanet Science Institute)। এই সংখ্যা কোনও একক মুহূর্তে স্থির নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের চলমান পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার ফলস্বরূপ ক্রমাগত বাড়ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় অবস্থিত ক্যালটেকের আইপ্যাক ইনস্টিটিউটের এনইএক্সএসসিআই (NExScI) বা NASA Exoplanet Science Institute এই গণনার দায়িত্বে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান গত তিন দশক ধরে চলা এক অসাধারণ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রতিফলন, যা মানব সভ্যতাকে মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের আরও কাছে নিয়ে এসেছে।

এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার (NASA Exoplanet Science Institute)
১৯৯৫ সালে প্রথমবার সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রের চারপাশে একটি এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করা হয়। সেটিই ছিল মহাবিশ্ব অনুসন্ধানের এক নতুন যুগের সূচনা। এরপর থেকে নাসা এবং বিশ্বের বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা হাজার হাজার গ্রহের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। আজ পর্যন্ত ৬,০০০-এরও বেশি এক্সোপ্ল্যানেটের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে, আর ৮,০০০-এরও বেশি সম্ভাব্য গ্রহের যাচাই চলছে। প্রতিটি আবিষ্কার আমাদের জানাচ্ছে, মহাবিশ্ব কতটা বৈচিত্র্যময় এবং প্রাণের সম্ভাবনা কত বিশাল।
অজানার অবারিত রূপ (NASA Exoplanet Science Institute)
- ‘হট জুপিটার’ : বৃহস্পতির চেয়ে বড় আকারের গ্যাস দৈত্যরা, যারা তাদের নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি প্রদক্ষিণ করছে।
- দ্বৈত নক্ষত্র প্রদক্ষিণকারী গ্রহ: যেমন Star Wars-এর টাটুইন গ্রহের মতো যা দুটি নক্ষত্রকে ঘিরে ঘোরে।
- ‘রোগ প্ল্যানেট’: কোনো নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ না করে মহাশূন্যে মুক্তভাবে ভাসছে।
- অদ্ভুত উপাদানের গ্রহ: কারও পৃষ্ঠ লাভায় আচ্ছাদিত, আবার কারও বায়ুমণ্ডলে রত্নপাথরের মেঘ!
গ্রহ শনাক্তকরণের কৌশল (NASA Exoplanet Science Institute)
এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্ত করা সহজ নয়। কারণ এগুলির অধিকাংশই নক্ষত্রের আলোয় ঢাকা পড়ে যায়। তাই বিজ্ঞানীরা পরোক্ষ পদ্ধতি ব্যবহার করেন,
- ট্রানজিট মেথড : যখন কোনো গ্রহ তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যায়, তখন নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা সামান্য কমে যায় এই পরিবর্তন শনাক্ত করেই গ্রহের অস্তিত্ব জানা যায়।
- রেডিয়াল ভেলোসিটি মেথড : গ্রহের মাধ্যাকর্ষণে নক্ষত্রের অবস্থানে ক্ষুদ্র দুলুনি দেখা দেয়, যেটি স্পেকট্রোমিটার দ্বারা মাপা হয়।
এছাড়াও নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং অন্যান্য দেশের সংস্থাগুলি মিলিতভাবে পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিতকরণ পরিচালনা করে।
তারার আলোয় ঢাকা সত্য উন্মোচনের অস্ত্র
নাসা নতুন প্রযুক্তি ‘রোমান করোনাগ্রাফ’ ব্যবহার করছে, যা নক্ষত্রের তীব্র আলো আটকাতে পারে। ফলে দূরবর্তী গ্রহগুলির সরাসরি ছবি তোলা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর মতো আকারের গ্রহ খুঁজে বের করতে চান এবং তাদের বায়ুমণ্ডলে জীবনের সম্ভাব্য রাসায়নিক স্বাক্ষর অনুসন্ধান করছেন।
আরও এক ধাপ এগিয়ে (NASA Exoplanet Science Institute)
নাসার দুটি বড় প্রকল্প এখন বিজ্ঞানী মহলে আলোচনার কেন্দ্রে,
- ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ
- হ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ডস অবজারভেটরি
এই টেলিস্কোপগুলো সূর্যের মতো নক্ষত্রের চারপাশে পৃথিবীর অনুরূপ গ্রহগুলি অনুসন্ধান করবে এবং তাদের বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করে জীবনচিহ্নের সন্ধান দেবে।
আমরা কি একা?
নাসার অ্যাস্ট্রোফিজিক্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক শন ডোমাগাল-গোল্ডম্যান বলেন “এই মাইলফলক কেবল সংখ্যার সাফল্য নয়, এটি মানবজাতির দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। এটি আমাদের সেই চিরন্তন প্রশ্নের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায় আমরা কি একা?” এই প্রশ্নের উত্তরই ভবিষ্যতের মহাকাশ অনুসন্ধানের মূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: Quad Summit : রীতি ভাঙছে কোয়াড! দিল্লিতে বাতিল হতে পারে বার্ষিক শীর্ষবৈঠক ?
মানব কৌতূহলের মহাজাগতিক এক অধ্যায়
৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নাসার এই অবিরাম প্রচেষ্টা মানব কৌতূহলের সীমাহীনতা প্রমাণ করছে। মহাবিশ্বে জীবনের সন্ধান কেবল বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান নয় এটি আমাদের অস্তিত্ব, উৎস, ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এক গভীর দার্শনিক অনুসন্ধান।
এক্সোপ্ল্যানেট অনুসন্ধান তাই কেবল গ্রহ গণনা নয়, বরং মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান বোঝার পথে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়।



