Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রথা মেনে কলকাতা ময়দানে নববর্ষে পালিত হল বারপুজো (Mohun Bagan)।
নতুন বছরে উৎসবের আবহ ময়দান জুড়ে (Mohun Bagan)
বছরের প্রথম দিন বাড়িতে আত্মীয়সমাগম, হালখাতার নিমন্ত্রণ, মেনুতে পছন্দের খাবার সব মিলিয়ে এ যেন একান্নবর্তী পরিবারের এক চিরাচরিত যাপন। কিছু জিনিস বয়স বা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেলেও কিছু এখনও রয়ে গিয়েছে। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন মানেই উৎসবের ছবি। সেই উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে ময়দানও (Mohun Bagan)।
বাঙালির কাছে নববর্ষ এবং ফুটবল বরাবরই আবেগের। সেই নস্টালজিয়া কিছুতে উস্কে দিতে উত্তম কুমারের সিনেমা ধন্যি মেয়ে যথেষ্ট। সেখানে ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল’ যেমন আজও সকলের মনের মধ্যে গেঁথে রয়েছে তেমন আবার ম্যাচের আগে উত্তম কুমারের ফুটবল পুজো করার দৃশ্য। তবে শুধু সিনেমায় নয় বাংলা নববর্ষের দিনে ময়দানেও দেখা যায় একই চেনা দৃশ্য। এই দিন প্রথা মেনে বারপুজো করা হয় কলকাতার ময়দানে। এই রীতি পালিত হয় প্রতিটা ক্লাবের তাঁবুতে। সেই ঐতিহ্য বজায় রয়েছে বছরের পর বছর।

বাঙালির চিরাচরিত লড়াই যেমন ইলিশ না চিংড়ি তেমনই আবার ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান। বছরের সবদিন বৈপরীত্য থাকলেও বাংলা নববর্ষের দিন দুই ক্লাবেই এক ছবি। একদিকে সমর্থকদের ভিড় যাদের কাছে দিনটা বিশেষভাবে আবেগের। যেখানে বয়সের ভার হেরে যায় আবেগের কাছে। সেই আবেগ নিয়েই বাঙালি আবার কাটিয়ে দেবে একটা বছর। সমর্থকদের পাশাপাশি এই দিন ময়দানে উপস্থিত হন দলের কর্তারা, প্লেয়ার (প্রাক্তন এবং বর্তমান), জুনিয়র দলের প্লেয়াররা। সবার উপস্থিতিতে তখন ময়দান জমজমাট (Mohun Bagan)।

মোহনবাগান ক্লাবের বারপুজোয় উপস্থিত ছিলেন দলের অধিনায়ক শুভাশিস বসু এবং প্লেয়ার মনবীর সিং। ইস্টবেঙ্গলের বারপুজোয় পুরুষ দলের প্লেয়াররা না থাকলেও উপস্থিত ছিলেন মহিলা দল এবং প্রাক্তন ফুটবলাররা। কলকাতার দুই বড় ক্লাবের পাশাপাশি এই দিন বারপুজো হয়েছে খিদিরপুর, ভবানীপুর, কাস্টমস, পুলিশ এসি এবং ডায়মন্ড হারবার এফসিতেও।
আসলে কলকাতা ময়দানে এই বারপুজো আর পাঁচটা পুজোর মতো নয়, এটা হলো প্রাক্তন থেকে বর্তমান প্লেয়ার, ক্লাব কর্তা, সমর্থকদের মিলনস্থল বা বলা যায় রিউনিয়ন। সারা বছর সমর্থকরা যাদের জন্য গলা ফাটান, তাদের সামনে থেকে দেখেন, কথা বলেন, ছবি তোলেন। সঙ্গে থাকে সেলফি ও অটোগ্রাফের বায়না বা আবদার আর তাঁরা সেগুলো হাসিমুখে মেটান। সঙ্গে খাওয়া-দাওয়ার এলাহী ব্যবস্থা (Mohun Bagan)।

মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস বসুও গলায় শোনা গেল প্রত্যয়ের সুর। তিনি বললেন, ‘এই বছর লক্ষ্য থাকবে ট্রফি জেতার। সারা বছর সমর্থকদের সঙ্গে এত কাছ থেকে দেখা করা এবং কথা বলার সুযোগ পাওয়া যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাঙালি ও কলকাতার ছেলে হিসেবে ভাগ্যবান এই পুজোয় থাকতে পেরেছি এবং প্রার্থনা করছি যেন এবার ট্রফি আসে।’
আরও পড়ুন: Prabhat Roy: নববর্ষেই দাদু হলেন প্রভাত রায়
তবে এই উৎসবের মুখেও রয়েছে ISL নিয়ে চিন্তা। ক্লাব কর্তারাও বলেন যে ট্রফি জয়ই তাঁদের মূল লক্ষ্য। আপ-ডাউন সব দলেরই থাকে কিন্তু সেসব ভুলে আগামীর ম্যাচেই ফোকাস করতে চায় দল। আইএসএল শুরুর আগে মোহনবাগান কোচ জানিয়েছিলেন যে তাঁরা পুরো মরশুম নিয়ে ভাবিত নয় বরং আগামীর ম্যাচে ফোকাস করতে চায় আর সেই একই কথা শোনা গেল সবুজ মেরুন অধিনায়কের গলায়ও। মোহনবাগান ক্লাব কর্তাকে ইস্টবেঙ্গলের জয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল দুইই কলকাতার বড় দল আর তাদের ভাল খেলা সামগ্রিক ফুটবলের উন্নতি সাধন করবে।
ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি সাধনের প্রশ্নে মোহনবাগান ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বসু বলেন, ‘যাঁরা এর দায়িত্বে আছে তাঁরাই এর জন্য প্রার্থনা বেশি ভাল করতে পারবে।’ তবে সমর্থকদের একটাই প্রার্থনা ব্যর্থতা ভুলে আবার সফলতার আলো যেন দেখতে পায় ভারতীয় ফুটবল। মোহনবাগানের পরের ম্যাচ রয়েছে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র বিরুদ্ধে ১৯ এপ্রিল (Mohun Bagan)।


