Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আবহাওয়া বড়সড় মোড় নিতে চলেছে (West Bengal)। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রবল জলীয় বাষ্প প্রবেশের কারণে রাজ্যজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা এক ধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে চরম সতর্কতা দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা (West Bengal)
ঝড়ের গতিবেগ (৬০-৭০ কিমি/ঘণ্টা): পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদীয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং হুগলি জেলায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় ধেয়ে আসতে পারে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: এই ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলার এক-দুটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতের (৭ থেকে ১১ সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যান্য জেলা (West Bengal)
দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
মৎস্যজীবীদের জন্য লাল সতর্কতা সমুদ্রে প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২৮ ও ২৯ মে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর ওড়িশা উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে, যা সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই এই দুই দিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাস (West Bengal)
উত্তরবঙ্গেও ঝড়-বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। আজ ২৭ মে, জলপাইগুড়ি জেলার কিছু কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টির (৭-১১ সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে এবং সমগ্র উত্তরবঙ্গে ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আগামী ২৮ ও ২৯ মে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলাসহ উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া চলার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের পূর্বাভাস (West Bengal)
গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তীব্র গরম অনুভূত হয়েছে, যেখানে কলাইকুন্ডায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকেও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে এই অস্বস্তিকর গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকবে। তবে আশার কথা এই যে, আগামী ২৪ ঘণ্টা পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে, যার ফলে তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। বজ্রঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সাধারণ মানুষকে কিছু নির্দেশিকা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে…

আরও পড়ুন: KMC TMC: কলকাতা পুরসভায় বড় ভাঙন: জেলা থেকে শহর তাসের ঘর ঘাসফুল শিবির
নিরাপদ আশ্রয়
বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা গাছের নিচে আশ্রয় না নিয়ে পাকা বাড়িতে বা নিরাপদ স্থানে থাকুন।
বিদ্যুৎ ও জল থেকে দূরে থাকুন, ঝড়ের সময় বৈদ্যুতিক খুঁটি বা কাঁচা কাঠামোর কাছাকাছি যাবেন না এবং জলাশয় থেকে দূরে থাকুন।
চাষবাসের ক্ষতি
ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের কারণে মাঠের ফসল ও উদ্যানপালনের ক্ষতি হতে পারে, তাই কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে , যাতায়াত, ঝড়ের তীব্রতা অনুযায়ী রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। আগামী ৩০ মে থেকে ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমবে এবং ১ জুন থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানা গেছে।



